দোলের আগের দিন কেন পালন করবেন ন্যাড়া পোড়া? কী তাঁর নেপথ্য কাহিনী?
দি নিউজ লায়নঃ দোলের আগের দিন ন্যাড়া পোড়া বা হোলিকা দহন করা হয়। কিন্তু এর নেপথ্যের কাহিনী জানেন কি? পুরাণে এই দিনে অশুভ শক্তিকে হারিয়ে শুভ শক্তির জয় হয়েছিল। সেই জয়ের উদযাপনই হয় এই দিন। পুরাণে আছে রাক্ষস রাজা হিরণ্যকশিপ তার প্রজাদের উপর খুব অত্যাচার চালাত। অত্যাচারে অতীষ্ঠ হয়ে ওঠেন প্রজাগণ।
অথচ রাজাকে দমন করা সম্ভব নয় কোনও মতে। কারণ, তিনি ব্রহ্মার বর প্রাপ্ত ছিলেন। অতয়েব তিনি অমর ছিলেন। কারন তিনি ব্রহ্মার কাছ থেকে কোনও মানুষ বা কোনও প্রাণী তাঁকে মারতে পারবে না। ঘরের ভেতরে বা ঘরের বাইরে তাঁর মৃত্যু হবে না। তাঁর মৃত্যু দিনেও হবে না, রাতেও হবে না। অস্ত্র দ্বারাও হবে না, সস্ত্র দ্বারাও হবে না। জমিতেও হবে না, জলেও হবে না, শূন্যেও হবে না। এদিকে তার সন্তান প্রহ্লাদ ছিলেন বিষ্ণুর পুজারি।
তাই তিনি তার সন্তানকে হত্যা করার চেষ্টা করেন। হোলিকা দাদকে জানিয়েছিলেন, ব্রহ্মার বরে পাওয়া চাদর যদি তিনি জড়িয়ে আগুনের মধ্যে বসেন, তাহলে তাঁর আগুন লাগবে না। কিন্তু অন্যরা পুড়ে ছাই হয়ে যাবে। আর প্রহ্লাদকে হত্যা করতে এই বরকেই কাজে লাগালেন হিরণ্যকশিপ। কিন্তু হিরণ্যকশিপের চেষ্টা সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়ে যায়। সেদিন হোলিকা মারা যায় আর প্রহ্লাদ বেঁচে যায়। বিষ্ণু তার ভক্তকে প্রাণ বাঁচাতে ঝোড়ো হাওয়া বইয়ে দিয়ে ওই চাদর দিয়ে দেন প্রহ্লাদ উপর। তাই এদিন অশুভ শক্তি তাড়াতে করা হয় ন্যাড়া পোড়া বা হোলিকা দহন।

Post a Comment